বৃহস্পতিবার , জুলাই 20 2017
নড়াইল এক্সপ্রেস

নড়াইল এক্সপ্রেসের আজ শুভ জন্ম দিন

একে একে ৩৩ তম জন্ম দিনে পা রাখলেন বাংলাদেশের সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি ১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর নড়াইল শহরের আলাদাতপুরে নানাবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম গোলাম মর্তুজা স্বপন এবং মাতার নাম হামিদা মর্তুজা বলাকা।

মাশরাফির শিক্ষাজীবন শুরু হয় নড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দিয়ে। এরপর ২০০১ সালে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন এবং ২০০৩ সালে এইচএসসি পাশ করেন নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে। পরবর্তীতে দর্শন শাস্ত্রে অনার্স কোর্সে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর ২০০৬ সালে সুমির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ঘরে রয়েছে দুটি সন্তান-মেয়ে হুমায়রা মর্তুজা এবং ছেলে সাহেল মর্তুজা।

ছোট বেলা থেকেই তার পছন্দের খেলা ছিল ক্রিকেট। ক্রিকেটের প্রতি অদম্য ভালবাসায় ১৯৯০ সালে শরীফ মোহাম্মদ হোসেনের প্রতিভাবান তরুণদের নিয়ে গড়ে উঠা নড়াইল ক্রিকেট ক্লাবে মাত্র ১১ বছর বয়সেই সুযোগ পান। এরপর থেকে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

৯২ সালে জাতীয় কোচ ওসমান খান নড়াইলে এক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালনা করছিলেন। সেই ক্যাম্পেই তার নজরে আসে মাশরাফি। এরপর খুলনায় খেলায় আমন্ত্রন পান। সেখানেই তিনি বোলিংয়ে গতি ও সুইং করে হইচই ফেলে দেন।

তারপর খুলনা বিভাগীয় অনুর্ধ্ব-১৭ দলে এবং জাতীয় অনুর্ধ্ব-১৯ দলে চান্স পান। প্রথম জাতীয় ম্যাচ খেলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ-এ’ দলে। এই ম্যাচ ম্যাশের জন্য বিতর্কিত হলেই ৪ উইকেট নিয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ৮ নভেম্বর ২০০১ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে। সেই বছরেই ২৩শে নভেম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটে মাশরাফির অভিষেক হয়। ২০০৯ সালের জুন মাসে অধিনায়ক হলেও ইনজুরি কারনে বাহিরে চলে যান এবং ২০১৪ সালের নভেম্বরে পুনরায় অধিনায়কত্ব পান।

তার পর থেকেই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একেরপর এক সাফল্য পায় বাংলাদেশ।

ইনজুরিকে সাথে নিয়ে, একে একে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পার করে ফেলেছেন প্রায় ১৫ টি বছর। ইনজুরির কথা বলতে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন,

বারবার ইনজুরি থেকে ফিরে আসার প্রেরণা পাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে। এমনও ম্যাচ গেছে চোটের কারণে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলাম না। তখন নিজেকে বলেছি, হাত-পায়ে গুলি লাগার পরও মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিলেন কীভাবে?  তোর তো একটা মাত্র লিগামেন্ট নেই! দৌড়া…!

এর আগে একবার তিনি ডেঙ্গু জড়ে আক্রান্ত ছিলেন। ডাক্তারকে প্রশ্ন করেছিলেন,

এই অবস্থায় খেললে আমি মারা যাব কি না? সেই সময় ম্যাশ ঝুঁকি নিয়েই খেলে ছিলেন।

তাই পাগলা ছাত্র সম্পর্কে প্রাক্তন কোচ ডেভ হোয়াটমোর বলেন,

মাশরাফির সাথে কারো তুলনার প্রয়োজন নাই। সে নিজেই নিজের তুলনা।

অনেক দিন ধরে অবসরের গুঞ্জন শুনা গেলেও, ম্যাশ ইনজুরি নামক পরম আত্মীয়র সাথে বন্ধুত্ব করেই এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে আছেন জাতীয় দলের শক্ত স্তম্ব হিসেবে। তিনিই বাংলাদেশের সফল অধিনায়ক।

হয়তোবা একদিন, অনিচ্ছায়, সেচ্ছায় বা ইনজুরির কারনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন মাশরাফি। সেদিন নিজেও কাঁদবেন এবং কোটি সমর্থককেও কাঁদাবেন।

Check Also

বিসিসিআই

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নতুন কেলেংকারি

কিছু দিন আগে লোধা কমিটি সভা করেছে বিসিসিআইয়ের সাথে। সেখানেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের গোপন কেলেঙ্কারি …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ten + nine =