শুক্রবার , নভেম্বর 17 2017
মেসি

মেসির ফেরা নিয়ে ট্রল

কোন ব্যক্তিই সমালোচনার বাহিরে নয়। সমালোচনা আছে বলেই একজন ব্যক্তি নিজের ভুল গুলো অনুধাবন করতে পারে এবং এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পায়। তাই কবির ভাষায় বলতে হয় …

নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো
যুগ জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আলো।

তাই মেসির ক্ষেত্রেও তা আলাদা নয়। আর এই সমালোচনা আছে বলেই আমরা পেয়েছি ব্রাজিলের জীবন্ত কিংবদন্তী ফুটবলার পেলে, আর্জেন্টিনার জীবন্ত কিংবদন্তী ফুটবলার মেরাডোনা, ফ্রান্সের জীবন্ত কিংবদন্তী ফুটবলার জিনেদিন জিদান, ইংল্যান্ডের সুনাম ধন্য তারকা ফুটবলার জর্জ বেস্ট এবং টোটাল ফুটবলের জনক ইয়োহান ক্রুইফকে।

অথচ মেসি অবসর ভেঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুনরায় প্রত্যাবর্তনের পর থেকে সোশাল মিডিয়াতে যে ট্রল শুরু হয়েছে, তা সত্যি দুঃখ জনক। আমরা কেও পূর্বের ইতিহাস ঘাটিনা। মনে যা আসে তাই বলে ফেলি। কোনটা ঠিক কোনটা বেঠিক, তা নিয়ে কোন যাচাই বাছাই করিনা। উদাহরন হিসেবে পেলে আর জিদানের কথাই ধরাযাক।

সর্বকালের সেরা ফুটবল খেলোয়াড় বলতে আমরা ব্রাজিলের পেলেকেই সবার উপরে রাখি। তিনি অবসর ভেঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন ব্রাজিলকে। অপরদিকে ফ্রান্সের জীবন্ত কিংবদন্তী জিনেদিন জিদান ২০০৪ সালে ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন এবং দেশের স্বার্থে ২০০৫ সালের ৩ আগস্ট আবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রত্যাবর্ত করেন। ২০০৬ সালে জিদানের কাঁধে চরেই ফ্রান্স বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে। তাই দেশের স্বার্থে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির ফেরা নিয়ে যে ট্রল শুরু হয়েছে, এটা কতটা যুক্তি সঙ্গত তা আমার জানা নাই।

আর যদি আধুনিক ফুটবলের কথা বলি। তাহলে মেসি সবার উপরে। তার হাতেই ফুটবল নুতুন রুপ পেয়েছে। তিনি শিখিয়েছেন কিভাবে মাথা ঠাণ্ডা রেখে খেলতে হয়। প্রতিপক্ষের উপর খেপে না গিয়ে, কিভাবে নিজের খেলার দিকে মনোনিবেশ স্থাপন করতে হয়। ফাউল না করেও পায়ের নিখুঁত কারুকার্যে কিভাবে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে হয়। কিভাবে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের উপর সহানুভূতি দেখাতে হয়। তাই ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তী ফুটবলার পেলে ইতালির ক্রীড়া দৈনিক গাজ্জেত্তা দেল্লো স্পোর্তকে বলেন,

সবচেয়ে নিখুঁত খেলোয়াড়ের দিক থেকে আমি বেশি পছন্দ করি লিওকেই। সময়ের তিন সেরা খেলোয়াড় বলতে গেলে মেসিই সবার উপরে। সে আমার সবচেয়ে বেশি প্রিয় খেলোয়াড়।

সুতরাং আমরা আধুনিক ফুটবলের জনক হিসেবে মেসিকেই ধরে নিতে পারি।
আর এই ৩ বারের বিশ্বকাপ বিজয়ী পেলেই মেসির অবসর ভেঙ্গে আবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে আশার আহব্বান জানিয়েছিলেন। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,

আশা করি মেসি তার সিদ্ধান্ত বদলাবে। মেসিই সেরা, এতে কোন সন্দেহ নাই। তার সাথে যেটা হয়েছে, সেটা ফুটবলে ঘটেই। পেনাল্টি মিস করে সে হতাশ হয়েছে। এটা হতেই পারে। আমার বিশ্বাস, সে আমার কথা শুনতে পাবে।

তাহলে আপনার বা আমার তার ফেরা নিয়ে ট্রল করে কি লাভ। বরং এটাই সত্য, মেসি ফিরেছে বলেই আমরা আবারো দেখবো তাকে, চির চেনা আকাশি রঙের জার্সিতে। তার লাখো কোটি সমর্থক আবারো দেখবে নিখুঁত, শৈল্পিক নৈপূর্ণের জাদুর খেলা। গোটা ফুটবল বিশ্ব আবারো পাবে নতুন কিছু রেকর্ড।

তাই, মেসির প্রত্যাবর্তকে ফুটবলের স্বার্থে সাধুবাদ জানানো উচিৎ।

 

Check Also

চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ

রোনালদোর ভেলায় চড়ে ক্লাব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ

খেলার শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলেছে অনভিজ্ঞ ক্লাব কাশিমা অ্যান্টলার্স। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার কাছে পরাজয় …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

one × four =