বৃহস্পতিবার , ডিসেম্বর 22 2016
মাশরাফি-মুস্তাফিজ

মুস্তাফিজ কি মাশরাফির পথে?

বলারদের নিত্যদিনের পরম আত্মীয় হল ইনজুরি। ইনজুরি ছাড়া বলারদের কথা কল্পনা করা যায়না। এই ইনজুরির সাথে সক্ষতা করেই তাদের সামনের পথ অতিক্রম করতে হয়। পৃথিবীতে এমন কোন বলার নেই, যার ইনজুরি নামক পরম আত্মীয়র সাথে সাক্ষাত হয়নি।

বাংলেদেশ ক্রিকেটে ইনজুরির আরেক নাম মাশরাফি বিন মুর্তজা। জিনি ২০০১ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে ধূমকেতুর মত আগমন করেছিলেন। তার আগমনে ক্রিকেট পাড়া ছিল মুখোরিত। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি সকলের নজর কেড়েছিলেন। অনেক গুনি ক্রিকেটারের তুলনায় প্রথম সারির তালিকায় থাকে মাশরাফির নাম।

তার পরও মাশরাফির নিত্য দিনের সঙ্গি ইনজুরি। তিনি কতবার ইনজুরি নামক মায়ার জালে আটকে গিয়ে খেলা থেকে দূরে থেকেছেন, হয়তোবা নিজেও জানেননা। এই ইনজুরির জন্য একবার নয়, দুবার নয় সাত বার চিকিৎসকের ছুরির নিচে নিজেকে সপে দিয়েছিলেন।

একজন ক্রিকেটার কতটা দেশ প্রেমিক হলে এ কাজ করতে পারে, সত্যি তা আমার বোধগম্য নয়। তার  বাম পায়ে আঘাত লাগলে পঙ্গুত্ব অবধারিত। তা যেনেও এখনও খেলে যাচ্ছেন প্রিয় খেলা ক্রিকেট। তার ঘুম থেকে উঠে বাম পা ঠিক করে মেঝেতে হাটার প্রস্তুতি নিতে সময় লাগে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। শুধু তাই নয় প্রত্যেকটি খেলার ইনিংসে এবং অনুশীলনে নিজেই বাম পায়ের হাঁটু থেকে সিরিচ দিয়ে পুজ বের করেন।

পৃথিবীর একমাত্র খেলোয়াড় মাশরাফি, তার ৭ টি জটিল অপারেশন করেও এখনও ক্রিকেট মাঠে সফল ভাবে টিকে আছেন। এর আগে ব্রেটলি অপারেশনের ভয়ে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন। সত্যি শুধু বাংলাদেশ নয়, সকল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত মাশরাফি বিন মুর্তজা।

তাকে ভালোবেসে ডাকা হয়, নড়াইল এক্সপ্রেস, পাগলা ও ম্যাশ নামে। ডেভ হোয়াটমোরের পাগলা ছাত্র ম্যাশ সম্পর্কে বলেন,

“মাশরাফির সাথে কারো তুলনার প্রয়োজন নাই। সে নিজেই নিজের তুলনা”।

অথচ তার একটু যত্ন হলে, ইনজুরি নামক মায়ার জাল থেকে অনেকটা দূরে থাকতো সে।

এটা হল মাশরাফির কথা। এবার আসি বাংলাদেশের তরুন ক্রিকেট কিংবদন্তী কাঁটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান প্রসঙ্গে।

সল্প সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শক্ত জায়গা করেছেন সাতক্ষীরার ছেলে মুস্তাফিজ। বড় ভাইয়ের হাত ধরেই যার ক্রিকেটে অঙ্গনে আশা এবং অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা। লন্ডনে বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলতে গিয়ে ইনজুরি নামক পরম আত্মীয়র সাথে সাক্ষাত হয় তার। তার পর থেকেই ইনজুরি মুস্তাফিজের নিত্য দিনের সঙ্গি।

জাতীয় দলে চান্স পেয়ে ভালো ফলাফল করলে, ক্লাব ক্রিকেটে ডাক পায় সে। কিন্তু পাকিস্তান সুপার লিগে খেলতে জাবার আগেই আনফিট হয়েপরে মুস্তাফিজ। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে তাকে আটকে রাখে বিসিবি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আইপিএলেও ফিট ছিলোনা সে। তার পরেও বিসিবি তাকে ছাড়পত্র দিয়েছে। কারন এটা ছিল কোটি টাকার হাতছানি। তাছাড়া এভাবে কতজন ক্রিকেটারকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে আটকিয়ে রাখবে বিসিবি।

আবার আইপিএল থেকে ইনজুরি নিয়েই ফিরে আশে মুস্তাফিজ। তাই কাউন্টির টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে ম্যাচে সাসেক্স হয়ে খেলা অনিশ্চিত হয়ে পরে মুস্তাফিজের। দীর্ঘ দের মাস পুনর্বাসনের পর ইংল্যান্ডে খেলতে জান তিনি। ১২ ঘণ্টা জার্নির পর ম্যাচ খেলার জন্য ফিট ছিলোনা সে। তাই পরের ম্যাচেই ইনজুরির ফাঁদে পরেন মুস্তাফিজ।

এভাবে চলতে থাকলে মাশরাফির মতই অবস্থা হবে মুস্তাফিজের। নানা প্রতিকুলতায় মাশরাফি টিকে থাকলেও, মুস্তাফিজ টিকে থাকবেনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে। আমরা হারাবো একজন প্রতিভাবান উজ্জ্বল নক্ষত্রকে।

আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন অনেক উন্নত। তাছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেরও অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আমাদের দেশী-বিদেশী ফিজিও-ট্রেনারের পাশাপাশি উন্নত মেডিকেল টিম আছে। তারা আধুনিক সেমিনারে যান, ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়েন এবং বোঝেন।

তাই বিসিবির উচিৎ মুস্তাফিজকে নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করা এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভাবে ফিট করা। আর এই প্রক্রিয়া সঠিক সময়ে না হলে, অচিরেই সে হারিয়ে জাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন থেকে।

আপডেট-

কিছুদিন আগেই বের হয়েছে মুস্তাফিজের এমআরআই রিপোর্ট। এই রিপোর্টে বাঁ কাঁধে সমস্যাটা ধরা পরে। তাই বিসিবি থেকে নিষেধাক্কা পাঠানো হয়েছে সাসেক্সে। স্বাভাবিক ভাবে ব্যথা না সারলে পরবর্তী ম্যাচ খেলতে পারবেনা মুস্তাজিজ। তার মানে রয়্যাল লন্ডন ওয়ানডে কাপ বা ন্যাটওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের কোন ম্যাচ খেলা হচ্ছেনা তার।

বিসিবির মতে,

চিকিৎসা যাই হোক তা লন্ডনেই করা হবে।

Check Also

চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ

রোনালদোর ভেলায় চড়ে ক্লাব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ

খেলার শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলেছে অনভিজ্ঞ ক্লাব কাশিমা অ্যান্টলার্স। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার কাছে পরাজয় …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + nineteen =